ভিডিও

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

ভিক্ষাবৃত্তি করে শতাব্দী প্রাচীন মন্দিরের পূজোর যোগাড় করেন সেবাইত

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

লিলটু বাউরি, নির্ভীক বাংলা আসানসোল :

আসানসোল শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে দামোদর নদীর তীরে তদানিন্তন কাশিপুরের মহারাজ মহাদেবের স্বপ্নাদেশ পেয়ে রজনীকান্ত ব্রহ্মচারীকে কয়েক বিঘা জমি দান করেছিলেন মহাদেবের মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে। কথিত আছে কাশিপুরের মহারাজকে চৈত্র মাসে ২৯ তারিখ মহাদেবের স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন তার মন্দির প্রতিষ্ঠা করে মানিকেশ্বর নামে মহাদেবের পূজো করতে। কাশিপুরের মহারাজ রজনীকান্ত ব্রহ্মচারীকে দায়িত্ব দেন মানিকেশ্বর নামে মহাদেবের পূজো করতে। কাশিপুরের মহারাজের নির্দেশ পাবার পর সেবাইত পূজো করতে শুরু করেন, ধীরে ধীরে সেখানে আরো মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। হিন্দুদের বার মাসে তেরো পার্বনের জায়গায় এখানে ছাব্বিশ পার্বন হয়। রজনীকান্ত ব্রহ্মচারী মারা গেলে হরিপদ চক্রবর্তী পূজোর দায়িত্ব পান, পরবর্তী কালক হারাধন চক্রবর্তী দায়িত্ব পান তার প্রয়ানের পর বর্তমানে পূর্ণিমা চক্রবর্তী সেবাইতের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ভক্তদের মনোস্কামনা পূরণ করেন মানিকেশ্বর এবং সেই কারণে সুদুর উত্তর প্রদেশ থেকে শুরু করে পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন জেলা থেকে অগনিত ভক্ত ভীড় জমান মন্দিরে। বর্তমান সেবাইত পূর্ণিমা চক্রবর্তী জানান মন্দিরে সারা বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পূজো হয় এবং পূজোর যোগাড়ের জন্য আশেপাশের গ্রামে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করেন। তিনি জানান রথের পূজো এখানে খুব ধূমধাম করে হয়, রজনীকান্ত ব্রহ্মচারী লখনউ থেকে সে সময় ৪০ হাজার টাকা দিয়ে পেতলের রথ কিনেছিলেন এবং সেই রথে ঘটা করে পূজো হত দীর্ঘদিন ধরে। বছর পাঁচেক আগে রথ চুরি হবার পর বর্তমানে লোহার রথ দিয়ে পূজো হয়, চুরি যাওয়া রথ হীরাপুর থানায় জমা আছে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ প্রশাসন তাদের রথ ফিরিয়ে দেয় নি। আসানসোল পৌরনিগমের পক্ষ থেকে একবার রথ উপলক্ষে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছিল তারপর থেকে কোনরকম সাহায্য পান নি বলে জানান পূর্ণিমা চক্রবর্তী। ভক্তদের দান এবং ভিক্ষাবৃত্তির উপর নির্ভর করে পূজো থেকে মেলা সবকিছু অনুষ্ঠিত হয় মন্দির প্রাঙ্গনে, সারা বছর মানিকেশ্বর বাবার কাছে মনস্কামনা জানাতে ভীড় লেগে থাকে।

TAGS

সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ খবর