ভিডিও

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

স্বাস্থ্য কমিশনের নির্দেশে প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ টাকার নার্সিংহোম বিল নেমে এল প্রায় দেড় লক্ষে

আসানসোলের আইনজীবী শেখর কুণ্ডুর অভিযোগের ভিত্তিতে

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

আসানসোল, সৌরদীপ্ত সেনগুপ্ত : রাজ্যে একশ্রেণীর স্বাস্থ্য ব্যবসায়ী নার্সিংহোম ও হাসপাতালে মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা লুঠ করে চলেছে এই অভিযোগ বহুদিনের। করোনা পরিস্থিতিতেও এই অসাধু হাসপাতাল এবং নার্সিংহোম পাহাড় প্রমাণ বিল করার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।এবার প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ টাকার বিল এক ধাক্কায় নেমে এল প্রায় দেড় লাখে। তবে স্বাস্থ্য কমিশনে অভিযোগ না জানালে এমন আশ্চর্য ঘটনা হয়তো ঘটতো না। কারণ অসাধু স্বাস্থ্য ব্যবসায়ী নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ রোগীকে ছাড়ার সময় পুরো টাকা মিটিয়ে দিতে বাধ্য করেছিলেন। তবে শেষমেষ সমস্ত দিক তদন্ত করে রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার টাকা করে ৭ দিনের হিসেবে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা বাদে বাকি প্রায় ছয় লক্ষ টাকা রোগীর পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই নির্দেশ মাথা পেতে নিয়েছে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। এথেকেই প্রমাণিত কিভাবে মানুষের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে একপ্রকার লুঠ চালাচ্ছে এক শ্রেণীর হাসপাতাল ও নার্সিং হোম ।

স্বাস্থ্য কমিশনের পক্ষ থেকে পাওয়া এই সুবিচারের নেপথ্যে ছিলেন আসানসোলের স্বনামধন্য আইনজীবী শেখর চন্দ্র কুন্ডু।
এই ব্যাপারে সাংবাদিকের পক্ষ থেকে তাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, তার বোন স্মৃতিকণা বর্ধন কলকাতার গিরিশ পার্কের আশির্বাদ নার্সিংহোমে ১৩ ই মে শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। ভর্তি হবার দিন গুগল পে এর মাধ্যমে দুই খেপে ৫০ হাজার করে ১ লক্ষ টাকা তিনি দেন। এরপর থেকেই দিন প্রতি ৬৫ থেকে ৭৫ হাজার টাকা করে জমা দিতে বলা হচ্ছিল। সে সময় অন্য কিছু চিন্তা করার কথা মনেই আসেনি শেখর বাবুদের। যদিও তাদের সন্দেহ হচ্ছিল সামান্য শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি রোগীর জন্য এত টাকা ব্যয় হবার কারণ কি। তারা গুগল পেনের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৯ দিনের জন্য প্রায় ৭ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার বিল ধরানো হয় শেখর বাবুদের হাতে। কিন্তু সেই সময়ই তারা নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের কাছে বলেন স্মৃতিকণা দেবী ওই নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন মাত্র ৭ দিন, অথচ বিল করা হয়েছে ৯ দিনের। যুক্তিপূর্ন এই কথা শোনামাত্রই দু’দিনের বিল কমিয়ে দেওয়া হয়। তখনকার মত চুপচাপ থেকে রোগীকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার পর শেখরবাবু এবং তার পরিবার রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনে সমস্ত বিষয় উল্লেখ করে অভিযোগ করেন। সেখানে তারা বলেন ওই নার্সিংহোমে প্রতিদিন যে খরচ দেখানো হয়েছে তা আদৌ হওয়ার কথা নয়। আবার যেসব পরিষেবার জন্য চার্জ ধার্য করা হয়েছে তাও অতিরিক্ত – যেমন ফিজিওথেরাপির চার্জ ধরা হয়েছে ২৮০০০ টাকা, অক্সিজেনের চার্জ ধরা হয়েছে প্রায় ৪৭০০০ টাকা, অ্যান্টিবায়োটিকের চার্জ ধরা হয়েছে ৯২ হাজার ৮০০ টাকা। এছাড়া তিনি বলেন সরকারের একটি নির্দেশ আছে যে করোনা রোগীর ক্ষেত্রে প্রথমদিন ২১০০০ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে ১৮০০০ টাকার বেশি অর্থ নেওয়া যাবেনা। অস্বাভাবিক এই বিষয়গুলি উল্লেখ করে স্বাস্থ্য কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি অসীম রায় সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই তদন্ত শেষে এই আগস্ট মাসের ৫ তারিখে স্বাস্থ্য কমিশন নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে রায় দেন। তাতে স্বাস্থ্য কমিশন উল্লেখ করেছেন সাতদিন ভর্তি থাকার জন্য দিন প্রতি কুড়ি হাজার টাকা করে মোট ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা নার্সিংহোম নেবে এবং অতিরিক্ত যে অর্থ নেওয়া হয়েছে অর্থাৎ প্রায় ছয় লক্ষ টাকা নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ স্মৃতিকণা দেবীর পরিবারকে অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে।”

রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনের এই রায় কলকাতার গিরিশ পার্কের ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে শেখর কুন্ডুর মত একজন দুঁদে আইনজীবী এই বিষয়টি নিয়ে সুনিপুণভাবে অভিযোগ দায়ের করায় রোগীর পরিবার লুঠের হাত থেকে রেহাই পেলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো সাধারণ দিন আনা দিন খাওয়া নাগরিক যাদের এই সুযোগ নেই বা যারা এত সমস্ত নিয়মকানুন জানেন না অথবা রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনে যাওয়ার মত উপায় নেই যাদের তারা কি এইরকমভাবেই চিকিৎসার নামে সর্বস্ব খোয়াতে থাকবেন?

TAGS

সম্পর্কিত খবর